সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]
এক ফসলের ওপর দাঁড়িয়ে হাওরের কৃষকের এক বছরের জীবন স্বপ্ন 

এক ফসলের ওপর দাঁড়িয়ে হাওরের কৃষকের এক বছরের জীবন স্বপ্ন

 

 

সৈয়দ সময় , নেত্রকোনা :

 

 

আগাম বন্যা-অতিবৃষ্টি-বাঁধভাঙার শঙ্কায় কাটে অপেক্ষার বারো মাস ।

 

 

হাওরে এখন বিস্তীর্ণ প্রান্তর। বর্ষার পানি সরে গেলে কোথাও সবুজ ঘাস, কোথাও সোনালি ধানের স্বপ্ন। পানির সঙ্গে সহাবস্থান করে বেড়ে ওঠা হিজল-করচের সারি দূর থেকে প্রকৃতিকে করে তোলে অপার সুন্দর। অথচ এই সৌন্দর্যের আড়ালেই বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার সঙ্গে বসবাস করছেন হাওরের কৃষক। তাঁদের জীবনের হিসাবটা যেন একটিমাত্র ফসলের সঙ্গে বাঁধা বোরো ধান।

নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীসহ হাওরবেষ্টিত সাত উপজেলার কৃষকের কাছে বোরো ধান শুধু একটি ফসল নয়; এটি সংসারের ব্যয় মেটানোর অবলম্বন, ঋণ পরিশোধের ভরসা এবং পরবর্তী বছরের বেঁচে থাকার পুঁজি। ধান ঘরে উঠলেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন কৃষক। কিন্তু সেই ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত প্রতিটি দিন কাটে আতঙ্কে কখন নামবে আগাম বন্যা, কখন অতিবৃষ্টিতে বাড়বে পানি, কখন ভেঙে যাবে ফসল রক্ষা বাঁধ।

এক মৌসুমের ফসলহানি তাই হাওরের কৃষকের কাছে কেবল একটি কৃষি ক্ষতি নয়; এর অভিঘাত গিয়ে পড়ে পুরো বছরের জীবন-জীবিকায়। কারণ, বিকল্প ফসলের সুযোগ সীমিত। একটি ফসল নষ্ট হলে নতুন করে অপেক্ষা করতে হয় আরেকটি বোরো মৌসুমের জন্য।

গত মে মাসেই সেই অনিশ্চয়তার নির্মম বাস্তবতা দেখেছেন জেলার কৃষকরা। বোরো ধান পুরোপুরি পাকতে না পাকতেই টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষয়ক্ষতির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৭৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

আটপাড়ার সুমাইখালী, মদনের গণেশের হাওর, খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে তখন দেখা যায় একই চিত্র। পানির নিচে তলিয়ে যায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান। আর যেসব কৃষক শেষ মুহূর্তে ধান কাটার চেষ্টা করেন, তাঁদের সামনে দেখা দেয় নতুন সংকট শ্রমিকের অভাব।

কেউ হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটেন। কেউ কাটা ধান নৌকায় তুলে নিয়ে যান অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায়। কৃষকের সেই মরিয়া লড়াইয়ে যোগ দেন পরিবারের নারী ও শিশুরাও। একদিকে মাথার ওপর সময় ফুরিয়ে যাওয়ার চাপ, অন্যদিকে চোখের সামনে পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা চলে দিনরাত।

খালিয়াজুরীর কৃষক ইদ্রিছ হোসেন বলেন, “হাওরের কৃষকরা একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভর করে থাকি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি ফসলহানি হয়, তাহলে আমাদের আরেক বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ভালো ফলনের আশায়।”

এই বাস্তবতা শুধু ফসলের মাঠের নয়; এটি হাওরের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রারও বাস্তবতা। ধান উঠলে কৃষকের ঘরে আসে স্বস্তি, বাজারে বাড়ে লেনদেন, ঋণ শোধের সুযোগ তৈরি হয়। আর ধান হারালে সংকুচিত হয়ে পড়ে পুরো অর্থনৈতিক চক্র।

প্রতি বছর বোরো মৌসুমের আগে নেত্রকোনার ছোট-বড় ১৩৪টি হাওরের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার ডুবন্ত ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই আগাম বন্যার পানি থেকে কৃষকের একমাত্র ফসলকে রক্ষা করা। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের পরও আতঙ্ক কাটে না।

কারণ হাওরের কৃষকের লড়াই শুধু বন্যার সঙ্গে নয়; সময়ের সঙ্গেও। ধান পাকতে দেরি হলে ঝুঁকি বাড়ে, পানি বাড়লে হাতে সময় থাকে না। আবার বর্ষার পানি পুরোপুরি না নামলে নতুন মৌসুমের বীজতলা তৈরিও কঠিন হয়ে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বর্ষার পরও অনেক ডোবায় পানি থেকে যাওয়ায় কৃষকরা সময়মতো বোরোর বীজতলা তৈরি করতে পারেন না। ফলে নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই তৈরি হয় আরেক দফা শঙ্কা।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্ষা শেষ হলেই মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, কেন্দুয়া, কলমাকান্দা ও আটপাড়ায় বোরো আবাদ শুরু হবে। কৃষকরা জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করবেন। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা ইরি-বোরো চাষাবাদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগাম বন্যার কবল থেকে ফসল রক্ষায় জেলার ১৩৪টি হাওরের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার ডুবন্ত ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।

তবু প্রশ্ন থেকে যায় একটি ফসলকে ঘিরে কি একটি অঞ্চলের মানুষের পুরো বছরের জীবন অনিশ্চয়তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে?

হাওরের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু তাঁদের প্রত্যাশা যুদ্ধ নয়, নিরাপদে বেঁচে থাকা। তাঁরা চান এমন একটি কৃষিব্যবস্থা, যেখানে একটি দুর্যোগে পুরো বছরের স্বপ্ন ডুবে যাবে না; এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে বাঁধ থাকবে সময়মতো, ফসল কাটার সময় থাকবে পর্যাপ্ত শ্রমিক, আর নতুন মৌসুম শুরু হবে নিশ্চিততার সঙ্গে।

কারণ হাওরের কৃষকের কাছে এক মুঠো ধান কেবল খাদ্য নয় সেটি তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ, ঋণমুক্তির স্বপ্ন, সংসারের হাসি এবং পরবর্তী এক বছরের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।

সোনালি ধানের শীষ যখন হাওরের বাতাসে দোলে, তখন সেখানে শুধু ফসল দোলে না দোলে হাজারো পরিবারের স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যায় প্রকৃতির কাছে

এবার কি ধান ঘরে উঠবে?