সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]
নেত্রকোনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

সুজাদুল ইসলাম ফারাস,

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোনার কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় এ মামলা করেন।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। রিপন পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে কয়েক বছর আগে থেকে পার্শ্ববর্তী নদর উপজেলার নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে তাঁদের বাড়িতে যান রিপন। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠোনে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন মিয়া। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে রিপন পালিয়ে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী ওই কিশোরীকে নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে জনপ্রিয়তা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রিপন আগে থেকেই কিশোরীটিকে উত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বসে।

সালিসে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হয়। সেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাঁকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে রিপনের বাড়িটি ভুক্তভোগীকে লিখে দিতে বলা হয়। পাশাপাশি রিপন মিয়াকে এলাকা ছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সালিসের কয়েকটি ভিডিও মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে হৈচৈ শুরু হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন রিপন মিয়া। একপর্যায়ে রিপন মিয়াকে বলতে শুনা যায় ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবে…! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’ কথার একপর্যায়ে তিনি মাফ চাওয়ার জন্য ফজলুর রহমানের পায়ে ধরেন।

তবে ভিডিও প্রকাশের পর ওই দিন সকাল থেকেই আত্মগোপনে চলে যান কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া।

বিষয়টি জানার পর নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। পাশাপাশি সালিসের লোকজনসহ এলাকাবাসীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলে পুলিশ। পরে রাতে ভুক্তভোগীর বাবা নেত্রকোনা মডেল থানায় রিপনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

সালিশের পর থেকে রিপন মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, মেয়েটি দরিদ্র পরিবারের। বিষয়টি জানার পর মেয়েটির পরিবার ও গ্রামের লোকজন আমাদের কাছে বিচার চায়। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্যও নেই। পরে আমরা এলাকাবাসী মিলে সালিসে বসেছিলাম। তারপর বলেছি আইনি পদক্ষেপ নিতে। সালিসের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে পুলিশ এ বিষয়ে কথা বলেছে।

সালিসে উপস্থিত থাকা স্থানীয় মাতব্বর মুখলেছুর রহমান দৌলত বলেন, ওই সালিসে আমি তেমন কিছু বলিনি। রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগে ওই সালিস বসেছিল। রিপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার খুবই দরিদ্র। তাই ওই কিশোরীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় পাঁচ লাখ টাকা তাঁকে দিতে বলা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় রিপনের বাড়ি ওই কিশোরীকে লিখে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।’

রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছি। আমার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর ওপর অন্যায়ভাবে অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। ওই ছাত্রীর আগে থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যাতায়াত ছিল।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ঘটনা জানার পর পুলিশ এ বিষয়ে ব্যবস্থা করেছে। মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রিপন আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করছেন। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ এসব সংলাপের ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৯ লাখ।