সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]
রাত ১১টায় শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সড়ক নির্মাণ তদারকিতে এডিসি লিজা ‘নারী হিসেবে নয়, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবেই কাজটি করছি’ সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা : দিনের সরকারি ব্যস্ততা শেষ। শহর যখন প্রায় নিস্তব্ধ, ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১১টা। অধিকাংশ মানুষ যখন ঘরে বিশ্রামে, তখন নির্মাণাধীন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কাজের মান ও অগ্রগতি দেখছিলেন নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা। সঙ্গে তাঁর ছোট্ট কন্যা মুনম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতের এই দৃশ্য নজর কেড়েছে নেত্রকোনাবাসীর। দায়িত্ব পালনে সময়ের সীমারেখার বাইরে গিয়ে সরেজমিনে উন্নয়নকাজ তদারকির এ উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। জানা গেছে, নেত্রকোনা শহরের ইসলামপুর মোড় থেকে চন্দ্রনাথ স্কুলের গেট পর্যন্ত প্রায় ২৯০ মিটার দীর্ঘ সড়কের উন্নয়ন ও ঢালাই কাজের উদ্বোধন এবং তদারকিতে ওই রাতে উপস্থিত হন এডিসি মুন মুন জাহান লিজা। নির্মাণকাজ নির্ধারিত মান ও নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। তবে এটাই তাঁর প্রথম পরিদর্শন নয়। এর আগে দিনের বেলাতেও তিনি নির্মাণস্থলে গিয়ে রড বাইন্ডিংসহ কাজের বিভিন্ন ধাপ পরিদর্শন করেন। ঢালাইয়ের আগে রডের বিন্যাসসহ নির্মাণকাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরাসরি দেখে নেন তিনি। কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, কাজের কোনো ত্রুটি বা অসঙ্গতি কারও চোখে পড়লে তা জানানো হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এডিসি মুন মুন জাহান লিজা বলেন, “আমি ঢালাইয়ের আগেই ছবি দিয়েছি। যদি কেউ কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করে বা ত্রুটি ধরিয়ে দেয়, তাহলে আমি সেটা আবার ঠিক করাব। আমার সৎ সাহস আছে বলেই আমি এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি।” গভীর রাতে একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্মাণকাজ তদারকিতে মাঠে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁর কাছে এটি নারী-পুরুষের প্রশ্ন নয়, বরং দায়িত্ব পালনের অংশ। তিনি বলেন, “এটাকে আপনি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বা কর্মের দায়বদ্ধতা বলতে পারেন। এখানে নারী হিসেবে নয়, আমি নিজেকে একজন কর্মকর্তা হিসেবে দেখছি। এখানে জেন্ডার বড় বিষয় নয়। আমার যে পরিচয় ও পদবি, সেই অনুযায়ী জনগণের সেবাটা যেন নিশ্চিত হয় এবং কাজের গুণগত মান যেন বজায় থাকে, সেজন্যই আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ দেখছি।” দিনভর দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পর অল্প সময়ের বিশ্রাম নিয়ে ছোট্ট মেয়েকে সঙ্গে করে গভীর রাতে নির্মাণস্থলে তাঁর উপস্থিতি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী বলেন, “আমি তাকে কেবল একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে দেখি না, তিনি একজন অত্যন্ত ডায়নামিক ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা। গভীর রাতে এমন উন্নয়ন কাজের তদারকিতে নেমে তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের পেশা ও দায়িত্বের প্রতি তিনি কতটা যত্নশীল।” তিনি বলেন, নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সরেজমিন উপস্থিতি অনিয়ম প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের তদারকি উন্নয়নকাজের প্রতি জনসাধারণের আস্থাও বাড়াতে পারে। নেত্রকোনার মানুষের প্রত্যাশা, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত হবে। কারণ, একটি সড়ক নির্মাণের সাফল্য শুধু কাজ শেষ হওয়ার মধ্যে নয়; তার স্থায়িত্ব, নির্মাণমান ও জনস্বার্থ নিশ্চিত হওয়ার মধ্যেই প্রকৃত সাফল্য। আর সেই জায়গা থেকেই রাতের নীরবতা ভেঙে নির্মাণস্থলে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপস্থিতি তুলে ধরেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সরকারি উন্নয়নকাজের প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনগণের অর্থ, প্রত্যাশা ও অধিকার।

রাত ১১টায় শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সড়ক নির্মাণ তদারকিতে এডিসি লিজা

‘নারী হিসেবে নয়, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবেই কাজটি করছি’

 

 

সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা :

 

 

 

 

দিনের সরকারি ব্যস্ততা শেষ। শহর যখন প্রায় নিস্তব্ধ, ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১১টা। অধিকাংশ মানুষ যখন ঘরে বিশ্রামে, তখন নির্মাণাধীন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কাজের মান ও অগ্রগতি দেখছিলেন নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা। সঙ্গে তাঁর ছোট্ট কন্যা মুনম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতের এই দৃশ্য নজর কেড়েছে নেত্রকোনাবাসীর। দায়িত্ব পালনে সময়ের সীমারেখার বাইরে গিয়ে সরেজমিনে উন্নয়নকাজ তদারকির এ উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

জানা গেছে, নেত্রকোনা শহরের ইসলামপুর মোড় থেকে চন্দ্রনাথ স্কুলের গেট পর্যন্ত প্রায় ২৯০ মিটার দীর্ঘ সড়কের উন্নয়ন ও ঢালাই কাজের উদ্বোধন এবং তদারকিতে ওই রাতে উপস্থিত হন এডিসি মুন মুন জাহান লিজা। নির্মাণকাজ নির্ধারিত মান ও নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

তবে এটাই তাঁর প্রথম পরিদর্শন নয়। এর আগে দিনের বেলাতেও তিনি নির্মাণস্থলে গিয়ে রড বাইন্ডিংসহ কাজের বিভিন্ন ধাপ পরিদর্শন করেন। ঢালাইয়ের আগে রডের বিন্যাসসহ নির্মাণকাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরাসরি দেখে নেন তিনি।

কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, কাজের কোনো ত্রুটি বা অসঙ্গতি কারও চোখে পড়লে তা জানানো হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এডিসি মুন মুন জাহান লিজা বলেন, “আমি ঢালাইয়ের আগেই ছবি দিয়েছি। যদি কেউ কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করে বা ত্রুটি ধরিয়ে দেয়, তাহলে আমি সেটা আবার ঠিক করাব। আমার সৎ সাহস আছে বলেই আমি এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি।”

গভীর রাতে একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্মাণকাজ তদারকিতে মাঠে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁর কাছে এটি নারী-পুরুষের প্রশ্ন নয়, বরং দায়িত্ব পালনের অংশ।

তিনি বলেন, “এটাকে আপনি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বা কর্মের দায়বদ্ধতা বলতে পারেন। এখানে নারী হিসেবে নয়, আমি নিজেকে একজন কর্মকর্তা হিসেবে দেখছি। এখানে জেন্ডার বড় বিষয় নয়। আমার যে পরিচয় ও পদবি, সেই অনুযায়ী জনগণের সেবাটা যেন নিশ্চিত হয় এবং কাজের গুণগত মান যেন বজায় থাকে, সেজন্যই আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ দেখছি।”

দিনভর দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পর অল্প সময়ের বিশ্রাম নিয়ে ছোট্ট মেয়েকে সঙ্গে করে গভীর রাতে নির্মাণস্থলে তাঁর উপস্থিতি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী বলেন, “আমি তাকে কেবল একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে দেখি না, তিনি একজন অত্যন্ত ডায়নামিক ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা। গভীর রাতে এমন উন্নয়ন কাজের তদারকিতে নেমে তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের পেশা ও দায়িত্বের প্রতি তিনি কতটা যত্নশীল।”

তিনি বলেন, নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সরেজমিন উপস্থিতি অনিয়ম প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের তদারকি উন্নয়নকাজের প্রতি জনসাধারণের আস্থাও বাড়াতে পারে।

নেত্রকোনার মানুষের প্রত্যাশা, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত হবে। কারণ, একটি সড়ক নির্মাণের সাফল্য শুধু কাজ শেষ হওয়ার মধ্যে নয়; তার স্থায়িত্ব, নির্মাণমান ও জনস্বার্থ নিশ্চিত হওয়ার মধ্যেই প্রকৃত সাফল্য।

আর সেই জায়গা থেকেই রাতের নীরবতা ভেঙে নির্মাণস্থলে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপস্থিতি তুলে ধরেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সরকারি উন্নয়নকাজের প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনগণের অর্থ, প্রত্যাশা ও অধিকার।