সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]
রিফিল না করেই ফায়ার এক্সটিংগুইশারে নকল স্টিকার, কর্মকর্তা বদলি

রিফিল না করেই ফায়ার এক্সটিংগুইশারে নকল স্টিকার, কর্মকর্তা বদলি

 

 

সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা :

 

 

 

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রিফিলের নামে প্রতারণার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনকে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগটি বিস্তারিত তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার কামরুজ্জামান সুমনকে নেত্রকোনা থেকে কক্সবাজারের টেকনাফে বদলি করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবারের সদস্য ও মালামাল নিয়ে তিনি মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ত্যাগ করেন।

নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, কামরুজ্জামান সুমনের মূল কর্মস্থল খালিয়াজুরী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। স্টেশনটি চালু না থাকায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মোহনগঞ্জ স্টেশনের দায়িত্বও পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে তিনি দুই স্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার সংগ্রহ করা হতো। এসব যন্ত্রের ভেতরের ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার পরিবর্তন না করেই শুধু পরিষ্কার করে ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগানো হতো। পরে ওই স্টিকারে রিফিল ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো যন্ত্রে রিফিলকারীর স্বাক্ষরও পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ওপর আস্থা রেখেই তাঁরা যন্ত্রগুলো রিফিলের জন্য দিতেন। প্রতিটি যন্ত্রের বিপরীতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হতো না। ফলে যন্ত্রের ভেতরের রাসায়নিক পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করার সুযোগ ছিল না তাঁদের।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দ্য সেফ মার্ট’-এর নকল স্টিকার ছাপানো হতো। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার সংগ্রহ করে রিফিলের নামে টাকা নেওয়ার পর সেগুলোতে ওই স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হতো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে।

মোহনগঞ্জ পৌর শহরের শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহবুব আলম সেলিম বলেন, বুধবার নেত্রকোনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা তদন্তে এসেছিলেন। তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা জানতে চেয়েছেন।

উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগটি গুরুতর হওয়ায় বিস্তারিত তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম ও পদবি এবং কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগ ওঠার কথাও জানা গেছে। ২০২১ সালে রংপুরে স্টেশন অফিসারের দায়িত্বে থাকার সময় তাঁর ফেনসিডিল সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই সময়ে সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগও ওঠে। পরে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

তখন কামরুজ্জামান সুমনের দাবি ছিল, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে ফেনসিডিল সেবন করানো হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তাঁকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে আগের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।