সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]
সরকারি বাড়িভাতা নিয়েও শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের আবাস, ব্যাহত শিক্ষার্থীদের পাঠদান

সরকারি বাড়িভাতা নিয়েও শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের আবাস, ব্যাহত শিক্ষার্থীদের পাঠদান

সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা :

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর সরকারি কলেজে শ্রেণিকক্ষকে ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি কোষাগার থেকে বাড়িভাড়া সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি কলেজ ভবনের তৃতীয় তলার একটি শ্রেণিকক্ষে তিনি বসবাস করছেন। এতে ওই কক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল ও ক্লাসে অংশগ্রহণেও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, মো. আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই কলেজ ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ তিনি ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই কক্ষে বিছানাপত্রসহ তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কক্ষটি মূলত পাঠদানের জন্য নির্ধারিত হলেও সেখানে অধ্যক্ষ বসবাস করায় স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী বলেন, অধ্যক্ষ তৃতীয় তলায় থাকায় সেখানে যাতায়াত ও ক্লাস করতে তারা অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে অনেক সময় ওই তলায় পাঠদান করা সম্ভব হয় না।

এদিকে অধ্যক্ষের নিয়মিত কলেজে উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, মাসের উল্লেখযোগ্য সময় অধ্যক্ষ কলেজের বাইরে থাকেন। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। তবে অধ্যক্ষের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির প্রকৃত চিত্র জানতে কলেজের হাজিরা রেজিস্টারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অধ্যক্ষ সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়মিত বাড়িভাড়া সুবিধা গ্রহণ করছেন। অথচ কলেজের একটি শ্রেণিকক্ষকে ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ব্যবহার করায় সরকারি অর্থে বাড়িভাড়া সুবিধা গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কলেজের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, অধ্যক্ষ যোগদানের পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার মাসিক বেতন থেকে বাড়িভাড়া বাবদ কোনো অর্থ কর্তন করা হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, তিনি নীতিমালা অনুসরণ করেই কলেজ পরিচালনা করছেন এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সঠিক নয়। কলেজে আগে থাকা বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি তিনি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

মাসে প্রায় ২০ দিন কলেজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, তিনি অনলাইনে মহাপরিচালকের (ডিজি) অনুমতি নিয়েই ছুটিতে থাকেন। তার বাৎসরিক ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পাওনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে শ্রেণিকক্ষে বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, এলাকায় থাকার উপযোগী ভালো বাসা না পাওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মতিতে তৃতীয় তলার একটি কক্ষ তিনি বসবাসের জন্য ব্যবহার করছেন।

বাড়িভাড়া সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর হিসাব করে বাড়িভাড়ার টাকা কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে দেবেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক অধ্যাপক এম আসাদ বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো তাদের কাছে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কলেজের শ্রেণিকক্ষ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই, প্রয়োজন হলে শ্রেণিকক্ষ দখলমুক্ত এবং কলেজে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।