কুমিল্লায় এসআই জীবন বিশ্বাস এ-র বিরুদ্ধে মাদকবাহী দুটি হাই-এক্স মাইক্রোবাসসহ এক মাদক কারবারি মাসুদকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফা
স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার হোমনা থানায় এসআই জীবন বিশ্বাস এ-র বিরুদ্ধে একশত কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক কারবারি আসামীকে ২৫ শে আগষ্ট সকালে আটক পর বিকাল বেলা দশ লাখ টাকার বিনিময়ে এক আসামী ও দুটি হাই এক্স মাইক্রোবাসকে ছেড়ে দেয়। এ বিষয়টি স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, মাদক কারবারি মাসুদসহ দুটি হাই এক্স মাইক্রোবাসটি কে ছেড়ে দেওয়া জন্য থানায় এসআই জীবন বিশ্বাস দশ লাখ টাকা নেন। ওইদিন বিকাল বেলা থানায় এজাহারে উল্লেখ আছে যে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ একজন কে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এবিষয় নিয়ে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে— ঘটনাস্থলে
বাস্তবে উদ্ধার হয়েছিল একশত কেজি গাঁজাসহ দুটি হাই এক্স মাইক্রোবাস চালক দুইজন। পরবর্তীতে এসআই জীবন বিশ্বাস এ-র কারসাজির মাধ্যমে আড়াল করা হয় আশি কেজি গাঁজা ও দুটি হাই এক্স মাইক্রোবাস চালক একজনকে। একাধিক সূত্র জানাযায়, ২৭ আগষ্ট বৃহস্পতিবারে এসআই জীবন বিশ্বাস এ-র সোর্স এর মাধ্যমে ঢাকাস্থ কমলাপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীই নিকট বিক্রয় করার ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
থানা সূত্র জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে হোমনা থানার এস আই জীবন বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালান। মামলায় এজাহারে দেখা যায় , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি হলুদ রঙের টাটা কোম্পানির পিকআপ আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর অধীনে গ্রেফতার দেখানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানাযায়, ২৫ শে আগষ্ট মঙ্গলবার সকালে এসআই জীবন বিশ্বাস প্রথমে একটি হাই-এক্স মাইক্রোবাস চালককে আটক করে। ওই গাড়ির চালক সামনে থেকে ক্লিয়ার দিচ্ছিল, অপর হাই এক্স গাড়িটি গাঁজা বহন করা হচ্ছিল।ওই সময় গাড়িটি তল্লাশি করে একশত কেজি গাঁজায় উদ্ধার করা হয় এবং দুই হাই এক্স মাইক্রোবাস এ-র চালকসহ আটক করে পর থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু পরে রহস্যজনকভাবে ওই দুটি হাই এক্স মাইক্রোবাস এ-র একজন চালককে ছেড়ে দেয়। আমাদের সূত্রের দাবি, আটককৃত দুটি হাই এক্স মাইক্রোবাস গাড়ি ও এক মাদক কারবারি আসামিকে ছাড়িয়ে দিতে দশ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। টাকার একটি অংশ বিকাশের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ এস আই জীবন বিশ্বাস এ-র হাতে নগদ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার কুচক্র বুদ্ধিতে কোথা থেকে এজাহারে জব্দ তালিকা দেখানোর জন্য, ছেড়ে দেওয়া হাই এক্সের চালকের যোগসাজশে একটি পিকআপ সংগ্রহ করে ২০ কেজি গাঁজার কথা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। আর এসআই জীবন বিশ্বাসের নিকত ৮০ কেজি মাদক (গাঁজা)পার্সোনাল সোর্স এ-র মাধ্যমে লুকায়িত ৮০ কেজি গাঁজা নোহা গাড়ি দিয়ে ঢাকাস্থ কমলাপুর এলাকার আশেপাশের বড় মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রয় করা হয়েছে। ও-ই সময় আটক হওয়ার পর তার সাথে আলাপকালে জানান, তার বাড়ি কুমিল্লা আর্দশ সদর উপজেলার ৩ নং দক্ষিণ দূর্গাপুর ইউনিয়নের সাতরা এলাকায় মাসুদ। এসআই জীবন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।কুমিল্লা ডিবিতে দায়িত্ব পালনের সময় এক সি আর মামলায় ৫ লাখ টাকা কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রমাণিত হলে, তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান তাকে শোকজ করে, পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপার তাকে ডিবি পুলিশের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে মিডিয়া সেলে দায়িত্ব দিয়ে রাখেন। ২৪ শে ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই ঘটনা চাপা পড়ে যায় এবং জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান আসার পর তিনি নির্দেশ প্রদান করেন যে, যারা ২ বছর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত আছেন তাদেরকে অন্যত্র পরিবর্তন করেন। জীবন বিশ্বাস ওই নির্দেশনা পেয়েও তিনি সিসি নিয়েছেন ৬ থেকে ৭ মাস পর। সূত্রে জানা যায় জীবন বিশ্বাস বলেন আমি ২০ লক্ষ টাকা লাগলেও আবার ডিবিতে ফিরে আসবো। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা জেলার হোমনা থানায় কর্মরত আছেন।বর্তমানে হোমনা থানায় যোগদানের পর আবারও একই ধরনের অভিযোগে জড়িয়ে পড়লেন তিনি।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ জানান,আইনের রক্ষক হয়েও কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধীদের থেকে ঘুষ নিয়ে ছাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে মাদকের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এস আই জীবন বিশ্বাস এ-র বিরুদ্ধে ৮০ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদককারবারি মাসুদ ও দুটি হাই এক্স মাইক্রোবাসকে টাকা বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ এ-র সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এবিষয়টির নিয়ে জানতে চাইলে এসআই জীবন বিশ্বাস তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নি।
সাইফুল ইসলাম শিশির
Reporter Name 























