পুলিশের সাবেক আইজিপি ও সাবেক আওয়ামী এমপি নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী মরহুম আলহাজ্ব নুরল আমিন পরিবারের সংবাদ সম্মেলন..
আজাদ রহমান মিশর
কটিয়াদি, কিশোরগঞ্জ,
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫। কটিয়াদি উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের মন্ডলভোগ গ্রামের অধিবাসী মরহুম আলহাজ্ব নুরুল আমিনের পরিবার বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক আইজিপি ও সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে তাদের ১৩০ একর জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়া ও হুমকি-নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগপত্র পাঠ করেন মরহুম নুরুল আমিনের ছেলে সিরাজুল আমিন। তিনি দাবি করেন, চানপুর, দিনামণি, ভূনা ও মন্ডলভোগ—এই চারটি মৌজার মোট ১৩০ একর আগ্রহ-অধিকার থাকা সত্ত্বেও ২০০৮ সালের শেষ দিকে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ আকন্দ ও তার অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী (অন্তত ২০-২৫ জন) জোরপূর্বক জায়গা দখল করে মাঠে মাছের ঘের, বালু উত্তোলন, গাছপালা রোপণ ও “বরকত আল-আমিন এগ্রো কমপ্লেক্স” নামের প্রকল্প চালু করে ভোগদখল শুরু করে। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ (বিবরণ অনুযায়ী) নূর মোহাম্মদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সিরাজুল জানান, দখলের পর থেকে তার বাবা ও পরিবারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হুমকি-মামলা করা হয়েছে; এমনকি জীবন রক্ষার্থে তার বাবাকে এক পর্যায়ে দেশ ত্যাগ করতেও বাধ্য হতে হয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি আইজিপি পদ থেকে অবসরগ্রহণ করলে নুরুল আমিন দেশে ফিরে আসেন এবং ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে জমি উদ্ধারের আবেদন করেন—কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি বলে তারা দাবি করেছেন।
(২০১৬ সালে) কটিয়াদি এলাকার একটি সিভিল মামলায় (দে: কা: বি: ১৫১ ধারার বিষয়ে) কিশোরগঞ্জের সহকারী জজ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন; কিন্তু অভিযুক্তরা আদালতের আদেশ অমান্য করে ওই প্রকল্প থেকে বিপুল পরিমাণ বালু ও গাছ বিক্রি করে দিয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ করেন। এছাড়া ইটভাটা, অবৈধ লিজ ও অন্যান্য কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে তারা জানান।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে সাবেক এমপির দুর্নীতির প্রমানাদি প্রকাশ পেয়েছে এবং ২০১২ সালের একটি পত্রিকায় বিষয়টি প্রথম পৃষ্ঠায় উঠে আসে। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বরের ঘটনাও পরিবার উল্লেখ করেছেন — সেই দিন রাতে সিরাজুলের বড় ভাই ও আত্মীয়দের কটিয়াদি থানায় গ্রেফতার করানো হয়; পরে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরিবারের দাবি, এসব গ্রেফতার ও মামলা নানাভাবে তাদের বিরূপ অবস্থায় রেখেছে।
পরিবর্তে ২০১৮ সালে মরহুম নুরুল আমিনের মৃত্যু ঘটে। এরপরও, পরিবারের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ অব্যাহত থাকে—শুধু তাই নয়, সিরাজুল বলছেন, নূর মোহাম্মদের ভাগ্নে মুন ও শাওন তাদের নেতৃouwde সন্ত্রাসী কার্যক্রম (মাদক-বিক্রি ও অস্ত্রসঞ্চয়) এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। পরিবার দাবি করেন, তাদের কাছে স্থানীয় প্রশাসনে এবং কটিয়াদি থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও ভিডিও-প্রমাণও রয়েছে।
আরও উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে মন্ডলভোগ ও দিনামণি এলাকাবাসী উপজেলার নির্বাহী অফিসারে লিখিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযোগ করে; তবে স্থানীয় প্রশাসন তৎপরতার অভাব দেখিয়েছে বলে এলাকাবাসী ও পরিবার অভিযোগ করেছেন। পরে এলাকাবাসীরা নিজ উদ্যোগে বালু উত্তোলন বন্ধের চেষ্টা করলে পুলিশি সহায়তায় তাদের প্রতিহত করে একই জায়গায় নানাভাবে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হয়—যার ভিডিও প্রমাণ পরিবারের কাছে আছে, বলে তারা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল আমিন বলেন, “আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে; বহুবার আইনি ও প্রশাসনিক পথ অনুসরণ করলেও যথাযথ উত্তরণ পাইনি। আমরা অনুরোধ জানাই—মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও দেশবাসীকে—অপকর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার। আমরা নিরাপত্তা ও ন্যায় চাই।”
পারিবারিক পক্ষ বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করা হয়েছে; তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং বাড়তি হুমকি-নিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবার উল্লেখ করে যে তাদের কাছে অভিযোগ, আদালতীয় নথি ও ভিডিও-প্রমাণ সংরক্ষিত আছে এবং প্রয়োজনে এসব উপস্থাপন করা হবে।
Reporter Name 























