3:31 pm, Saturday, 18 April 2026

কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করার অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:45:49 am, Sunday, 28 December 2025
  • 100 Time View

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা কমিটেড, আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ—এই দেশে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করতে দেব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট।’ তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা বলে আমরা নাকি কোরআন ও সুন্নাহর আইন চাই না—নাউজুবিল্লাহ। আমরা সব সময় কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই থাকতে চাই।’

রোববার ঠাকুরগাঁওয়ের মানব কল্যাণ পরিষদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যে বারবার ইসলাম ও আল্লাহর কথা এসেছে, যা আলেম-ওলামারা পছন্দ করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বংশে, রক্তে এটা আছে—আমি একজন মুসলমান, অত্যন্ত গর্বিত। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা শান্তি চাই। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক—যেখানে আমি শান্তিতে এবাদত করতে পারব, ধর্মচর্চা করতে পারব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

তিনি চরমোনাই পীরের সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সেখানে একমত হওয়া ১০টি বিষয়ের মধ্যে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আইন একটি ছিল।’

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, মাসিক সম্মানী প্রদান, ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১৯৯৩ সালের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তার, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে সময়োপযোগী করা এবং তাঁদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সুবিধা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্যও প্রযোজ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে এবং মেডিকেল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্থানীয় দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন বিএনপির মহাসচিব।

বয়সের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন। বয়স হয়ে গেছে, পরে নির্বাচন করা সম্ভব হবে কি না জানি না।’

দেশের বর্তমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কিছু লোক পেছন থেকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সবাইকে সাবধান থাকতে হবে যেন বিভেদ সৃষ্টি না হয় এবং চক্রান্তকারীদের ফাঁদে না পড়ি। এই নির্বাচন ভাঙার চেষ্টা চলছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ সভায় স্থানীয় আলেম-ওলামা ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন এমপি ড. জালাল উদ্দীন

কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করার অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

Update Time : 09:45:49 am, Sunday, 28 December 2025

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা কমিটেড, আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ—এই দেশে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করতে দেব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট।’ তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা বলে আমরা নাকি কোরআন ও সুন্নাহর আইন চাই না—নাউজুবিল্লাহ। আমরা সব সময় কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই থাকতে চাই।’

রোববার ঠাকুরগাঁওয়ের মানব কল্যাণ পরিষদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যে বারবার ইসলাম ও আল্লাহর কথা এসেছে, যা আলেম-ওলামারা পছন্দ করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বংশে, রক্তে এটা আছে—আমি একজন মুসলমান, অত্যন্ত গর্বিত। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা শান্তি চাই। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক—যেখানে আমি শান্তিতে এবাদত করতে পারব, ধর্মচর্চা করতে পারব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

তিনি চরমোনাই পীরের সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সেখানে একমত হওয়া ১০টি বিষয়ের মধ্যে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আইন একটি ছিল।’

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, মাসিক সম্মানী প্রদান, ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১৯৯৩ সালের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তার, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে সময়োপযোগী করা এবং তাঁদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সুবিধা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্যও প্রযোজ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে এবং মেডিকেল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্থানীয় দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন বিএনপির মহাসচিব।

বয়সের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন। বয়স হয়ে গেছে, পরে নির্বাচন করা সম্ভব হবে কি না জানি না।’

দেশের বর্তমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কিছু লোক পেছন থেকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সবাইকে সাবধান থাকতে হবে যেন বিভেদ সৃষ্টি না হয় এবং চক্রান্তকারীদের ফাঁদে না পড়ি। এই নির্বাচন ভাঙার চেষ্টা চলছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ সভায় স্থানীয় আলেম-ওলামা ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।