3:28 pm, Saturday, 18 April 2026

দলের বির্পযয়ের হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া ্

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:48:21 am, Tuesday, 30 December 2025
  • 81 Time View

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ৮০ বছর বয়সে আজ সকাল ৬টায় তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান চরিত্র খালেদা জিয়া ছিলেন।

 

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে নামা খালেদা জিয়া মাত্র দশ বছরের মধ্যে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে যান।

১৯৮১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা হওয়ার পর বিপর্যস্ত দলকে টিকিয়ে রাখতে খালেদা জিয়া হাল ধরেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি দলকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়েছিলেন।

 

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়।

 

একই সময়ে অনেক নেতা সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের সঙ্গে শরিক হন। সব মিলিয়ে দল চরম সংকটে পড়ে। সেই সময় ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপিতে যোগ দেন এবং প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যান হন। পরের বছর, ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।

 

খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ইস্কান্দর মজুমদার এবং মায়ের নাম তৈয়বা মজুমদার। পরিবারের আদি ভিটা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়, তবে তারা স্থায়ীভাবে দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয়।

 

তিনি সব সময় পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন, বলেছেন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ ও বিএনপির নেত্রী সেলিমা রহমান।

 

১৯৮২ সালে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের সময় বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসন ছিল। নয় বছর ধরে কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া দলের ও নিজের অবস্থান শক্ত করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন।

 

আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী দলগুলোর জোটও তৎকালীন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিএনপি অংশ না নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে থাকার কারণে খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত হন। তিনি এরশাদ সরকারের বিরোধিতা করে তিনবার গ্রেপ্তার হন।

 

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।

 

তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। নির্বাচনে তিনি পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই বিজয়ী হন। নির্বাচনের আগে তিন জোটের রূপরেখায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের অঙ্গীকার ছিল। নির্বাচনের পর গঠিত পঞ্চম সংসদে খালেদা জিয়া সংসদীয় সরকার পদ্ধতি চালু করার জন্য বিল উত্থাপন করেন, যা ঐকমত্যের ভিত্তিতে পাশ হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন এমপি ড. জালাল উদ্দীন

দলের বির্পযয়ের হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া ্

Update Time : 07:48:21 am, Tuesday, 30 December 2025

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ৮০ বছর বয়সে আজ সকাল ৬টায় তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান চরিত্র খালেদা জিয়া ছিলেন।

 

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে নামা খালেদা জিয়া মাত্র দশ বছরের মধ্যে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে যান।

১৯৮১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা হওয়ার পর বিপর্যস্ত দলকে টিকিয়ে রাখতে খালেদা জিয়া হাল ধরেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি দলকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়েছিলেন।

 

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়।

 

একই সময়ে অনেক নেতা সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের সঙ্গে শরিক হন। সব মিলিয়ে দল চরম সংকটে পড়ে। সেই সময় ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপিতে যোগ দেন এবং প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যান হন। পরের বছর, ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।

 

খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ইস্কান্দর মজুমদার এবং মায়ের নাম তৈয়বা মজুমদার। পরিবারের আদি ভিটা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়, তবে তারা স্থায়ীভাবে দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয়।

 

তিনি সব সময় পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন, বলেছেন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ ও বিএনপির নেত্রী সেলিমা রহমান।

 

১৯৮২ সালে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের সময় বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসন ছিল। নয় বছর ধরে কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া দলের ও নিজের অবস্থান শক্ত করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন।

 

আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী দলগুলোর জোটও তৎকালীন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিএনপি অংশ না নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে থাকার কারণে খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত হন। তিনি এরশাদ সরকারের বিরোধিতা করে তিনবার গ্রেপ্তার হন।

 

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।

 

তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। নির্বাচনে তিনি পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই বিজয়ী হন। নির্বাচনের আগে তিন জোটের রূপরেখায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের অঙ্গীকার ছিল। নির্বাচনের পর গঠিত পঞ্চম সংসদে খালেদা জিয়া সংসদীয় সরকার পদ্ধতি চালু করার জন্য বিল উত্থাপন করেন, যা ঐকমত্যের ভিত্তিতে পাশ হয়।