নবনির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পরিচিত সভা। দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত, উন্নয়নমুখী চুয়াডাঙ্গা গড়ার প্রত্যয়
আব্দুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গায় প্রতিনিধি :
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের এক পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি দমন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী চুয়াডাঙ্গা গড়তে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, দুই আসনের জনপ্রতিনিধিরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবেন। পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ থেকে জেলার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত জেলা গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উন্নয়নমূলক কাজ, বিশেষ করে রাস্তাঘাট নির্মাণে বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না তা নিয়মিত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছিল। পুনরায় কার্যকর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। সকল অফিসকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষিপ্রধান জেলা। কৃষকদের সারের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার শারমিন আক্তার, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেলসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আব্দুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গায় প্রতিনিধি : 


















