3:31 pm, Saturday, 18 April 2026

ডিবি পুলিশের ৬ সদস্য ও সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম, নরীসহ ১৫জন আটক

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার তেরোতোফায় চোরাই পথে ভারতীয় গরু, মাদক ও বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের সংবাদ পেয়ে ডিবি পুলিশ অভিযান চালালে চোরাকারবারীরা হামলা চালায়। এতে ডিবি পুলিশের ৬ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হয়। পরে ডিবি পুলিশ দুই দফা অভিযান চালিয়ে নারীসহ ১৫জনকে আটক করেছে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরমধ্যে চারজন নারী রয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪৬লাখ ৫৫হাজার ৫০০ টাকা সহ মাদক ও চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এসআই আবদুল জলিলের নেতৃত্বে ডিবির পুলিশের একটি টিম উপজেলার তেরোতোফা গ্রামে সারফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চার জনকে আটক করে। অভিযানের সময় পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে সারফুলের লোকজন। এ সময় ৬জন পুলিশ সদস্যসহ সাংবাদিকদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। পরদিন বুধবার ভোরে পুনঃরায় অভিযান চালিয়ে আরও ১১জনকে আটক করা হয়। বুধবার দুপুরে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আটকৃতরা হলেন- সমিরুদ্দিনের ছেলে আল আমিন (৩২), রুস্তম আলীর ছেলে শারফুল ইসলাম (৩৫), আজহারুল সরকারের ছেলে রুনেল সরকার(২৮), মাজহারুল ইসলামের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম সায়েম (২৩), আবদুল জলিলের ছেলে আদির উদ্দিন (২৪), সুলতান মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (৫৫), আবু বক্করের ছেলে মো. আবদুল জলিল (৪৫), রুসমত আলীর স্ত্রী আদিয়া খাতুন (৬৫), শাহাতন আক্তার (৩০), আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৫৫) সাইকুল ইসলামের স্ত্রী পারভিন আক্তার সবাই কলমাকান্দা উপজেলার তেরোতোফা গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়াও একই উপজেলার আমগড়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে কাউসার মাহমুদ(২৪), কৃষ্টপুর গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে মোশারফ মিয়া(৩২), ডাইয়েরকান্দা গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৮) ও রায়পুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে আফাজ উদ্দিন (৫৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার তেরোতোফায় গত মঙ্গলবার চোরাই পথে ভারতীয় গরু, মাদক ও বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান এবং মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের প্রস্তুতি চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবদুল জলিলের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অন্যরা ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য, কসমেটিক, ভারতীয় গরু এবং টাকা গণনার মেশিন নিয়ে পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে স্থানীয় দৈনিক দেশ কন্ঠস্বর পত্রিকার সাংবাদিক শ্যামল সরকার নামে একজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার ভোরে পুনঃরায় অভিযান চালিয়ে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ৪৬লাখ ৫৫হাজার ৫০০ টাকা সহ ভারতীয় ৫ বোতল মদ, ২০পিস ইয়াবা, ৫টি ভারতীয় গরু একটি রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। নারী সহ ১১জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ অভিযানে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবির অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম, কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক তদন্ত, বিশরপাশা তদন্ত কেন্দ্রের ইনসার্জ ও নেত্রকোনা পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানায় পৃথক পৃথক তিনটি মামলা রুজু হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন এমপি ড. জালাল উদ্দীন

ডিবি পুলিশের ৬ সদস্য ও সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম, নরীসহ ১৫জন আটক

Update Time : 10:15:19 am, Thursday, 26 February 2026

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার তেরোতোফায় চোরাই পথে ভারতীয় গরু, মাদক ও বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের সংবাদ পেয়ে ডিবি পুলিশ অভিযান চালালে চোরাকারবারীরা হামলা চালায়। এতে ডিবি পুলিশের ৬ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হয়। পরে ডিবি পুলিশ দুই দফা অভিযান চালিয়ে নারীসহ ১৫জনকে আটক করেছে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরমধ্যে চারজন নারী রয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪৬লাখ ৫৫হাজার ৫০০ টাকা সহ মাদক ও চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এসআই আবদুল জলিলের নেতৃত্বে ডিবির পুলিশের একটি টিম উপজেলার তেরোতোফা গ্রামে সারফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চার জনকে আটক করে। অভিযানের সময় পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে সারফুলের লোকজন। এ সময় ৬জন পুলিশ সদস্যসহ সাংবাদিকদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। পরদিন বুধবার ভোরে পুনঃরায় অভিযান চালিয়ে আরও ১১জনকে আটক করা হয়। বুধবার দুপুরে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আটকৃতরা হলেন- সমিরুদ্দিনের ছেলে আল আমিন (৩২), রুস্তম আলীর ছেলে শারফুল ইসলাম (৩৫), আজহারুল সরকারের ছেলে রুনেল সরকার(২৮), মাজহারুল ইসলামের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম সায়েম (২৩), আবদুল জলিলের ছেলে আদির উদ্দিন (২৪), সুলতান মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (৫৫), আবু বক্করের ছেলে মো. আবদুল জলিল (৪৫), রুসমত আলীর স্ত্রী আদিয়া খাতুন (৬৫), শাহাতন আক্তার (৩০), আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৫৫) সাইকুল ইসলামের স্ত্রী পারভিন আক্তার সবাই কলমাকান্দা উপজেলার তেরোতোফা গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়াও একই উপজেলার আমগড়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে কাউসার মাহমুদ(২৪), কৃষ্টপুর গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে মোশারফ মিয়া(৩২), ডাইয়েরকান্দা গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৮) ও রায়পুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে আফাজ উদ্দিন (৫৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার তেরোতোফায় গত মঙ্গলবার চোরাই পথে ভারতীয় গরু, মাদক ও বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান এবং মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের প্রস্তুতি চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবদুল জলিলের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অন্যরা ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য, কসমেটিক, ভারতীয় গরু এবং টাকা গণনার মেশিন নিয়ে পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে স্থানীয় দৈনিক দেশ কন্ঠস্বর পত্রিকার সাংবাদিক শ্যামল সরকার নামে একজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার ভোরে পুনঃরায় অভিযান চালিয়ে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ৪৬লাখ ৫৫হাজার ৫০০ টাকা সহ ভারতীয় ৫ বোতল মদ, ২০পিস ইয়াবা, ৫টি ভারতীয় গরু একটি রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। নারী সহ ১১জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ অভিযানে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবির অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম, কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক তদন্ত, বিশরপাশা তদন্ত কেন্দ্রের ইনসার্জ ও নেত্রকোনা পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানায় পৃথক পৃথক তিনটি মামলা রুজু হয়েছে।