5:43 pm, Friday, 24 April 2026

মৌলভীবাজারে পল্লী বিদ্যুৎ লোডশেডিং জনজীবনে ভোগান্তি

মৌলভীবাজারে পল্লী বিদ্যুৎ লোডশেডিং জনজীবনে ভোগান্তি

 

মোফাজ্জল হোসেন শায়েখ

স্টাফ রিপোর্টার

 

মৌলভীবাজার জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

 

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 

বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

 

শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আসন্ন পরীক্ষাকে সামনে রেখে অনেকেই টর্চ বা বিকল্প আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

 

অন্যদিকে, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। পানির সংকট, রান্নাবান্নায় সমস্যা এবং দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।

 

 

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ও বিক্রি কমে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় দোকান চালালেও তাতে খরচ বাড়ছে এবং আয় কমছে।

 

 

এক ব্যবসায়ী বলেন, “দিনে বিদ্যুৎ থাকে না, রাতে তো একেবারেই থাকে না—এভাবে ব্যবসা চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় দৈনিক প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে এর অর্ধেকেরও কম, প্রায় ৪৫ শতাংশ।

এই ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

 

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের কারণে সাময়িকভাবে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এদিকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মৌলভীবাজারে পল্লী বিদ্যুৎ লোডশেডিং জনজীবনে ভোগান্তি

Update Time : 02:38:53 pm, Thursday, 23 April 2026

মৌলভীবাজারে পল্লী বিদ্যুৎ লোডশেডিং জনজীবনে ভোগান্তি

 

মোফাজ্জল হোসেন শায়েখ

স্টাফ রিপোর্টার

 

মৌলভীবাজার জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

 

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 

বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

 

শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আসন্ন পরীক্ষাকে সামনে রেখে অনেকেই টর্চ বা বিকল্প আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

 

অন্যদিকে, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। পানির সংকট, রান্নাবান্নায় সমস্যা এবং দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।

 

 

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ও বিক্রি কমে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় দোকান চালালেও তাতে খরচ বাড়ছে এবং আয় কমছে।

 

 

এক ব্যবসায়ী বলেন, “দিনে বিদ্যুৎ থাকে না, রাতে তো একেবারেই থাকে না—এভাবে ব্যবসা চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় দৈনিক প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে এর অর্ধেকেরও কম, প্রায় ৪৫ শতাংশ।

এই ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

 

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের কারণে সাময়িকভাবে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এদিকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।