সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]

মতলব উত্তরে ১৬ দপ্তর কর্মকর্তাশূন্য, প্রধান শিক্ষক নেই ১২৮ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে প্রশাসন; থানায় ওসি (তদন্ত) ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, অধ্যক্ষ নেই ছেংগারচর সরকারি ডিগ্রি কলেজে

মতলব উত্তরে ১৬ দপ্তর কর্মকর্তাশূন্য, প্রধান শিক্ষক নেই ১২৮ বিদ্যালয়ে

অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে প্রশাসন; থানায় ওসি (তদন্ত) ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, অধ্যক্ষ নেই ছেংগারচর সরকারি ডিগ্রি কলেজে

 

মোঃ মাহফুজ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় একসঙ্গে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রধান পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো দপ্তরে অন্য কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হলেও নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি উপজেলার শিক্ষা খাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট। ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টি এবং ১১টি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ছেংগারচর সরকারি ডিগ্রি কলেজেও অধ্যক্ষের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। এতে দাপ্তরিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি ও দ্রুত বাস্তবায়নেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

১৬ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তা নেই

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদে বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, বিআরডিবি কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, দুইজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, আইসিটি কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে।

এসব দপ্তরের কোনো কোনোটি অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি মতলব উত্তরের দায়িত্ব পালন করায় নিয়মিত অফিস করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন সংশ্লিষ্ট উপজেলায় উপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ফলে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত, সেবা প্রদান, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতি কমে যাচ্ছে।

১২৮ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

প্রশাসনিক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলায় ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে উপজেলার ১১টি উচ্চ বিদ্যালয়েও প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এমনকি উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়েও বর্তমানে প্রধান শিক্ষক নেই।

এছাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেংগারচর সরকারি ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

থানায় ওসি (তদন্ত) পদ শূন্য

উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান মতলব উত্তর থানাতেও জনবল সংকট রয়েছে। থানায় ওসি (তদন্ত) পদটি শূন্য থাকায় নিয়মিত তদন্ত কার্যক্রমেও অতিরিক্ত দায়িত্বের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একাধিক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে উপজেলার ৫ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া ছেংগারচর পৌরসভাতেও বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

সেবা নিতে এসে ভোগান্তি

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে উপজেলা পরিষদে এসে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার উপস্থিতির দিন সম্পর্কে আগে থেকে না জানায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে একাধিকবার উপজেলা পরিষদে আসতে হচ্ছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, একজন কর্মকর্তা যখন নিজের দপ্তরের পাশাপাশি আরেকটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করেন, তখন কোনো একটি জায়গাতেই তিনি পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। ফলে কাগজপত্র নিষ্পত্তি থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন—সব ক্ষেত্রেই ধীরগতি তৈরি হয়।

‘প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয় পরিচালনা বড় চ্যালেঞ্জ’

উপজেলার সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, “প্রধান শিক্ষকবিহীন এতগুলো বিদ্যালয় পরিচালনা করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করছেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”

‘প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. ফারুকুল ইসলাম বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন না; তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করেন। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাব পড়ে। তাই দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা জরুরি।”

‘স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জামাল হোসেন বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হলেও একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, একাডেমিক তদারকি ও শিক্ষার মানোন্নয়ন আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।”

‘শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “মতলব উত্তর উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আপাতত দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেবা প্রদান ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা পান, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”

দ্রুত পদায়নের দাবি

সচেতন নাগরিকদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোর শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষের শূন্য পদে স্থায়ীভাবে কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে।

তাদের মতে, শুধু অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বছরের পর বছর একটি উপজেলা পরিচালনা করা হলে কাঙ্ক্ষিত জনসেবা নিশ্চিত করা কঠিন। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে হলে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নিয়মিত ও পূর্ণকালীন কর্মকর্তা থাকা জরুরি।

১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা সংকট, থানায় গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষের দীর্ঘদিনের শূন্যতা—সব মিলিয়ে মতলব উত্তর উপজেলায় প্রশাসনিক ও জনসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।