জুলাই আন্দোলনে পুলিশের হামলার শিকার সাংবাদিক শামীম আহমেদ: এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি
✍️ আসাদুজ্জামান মুরাদ
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন একজন নিরীহ সংবাদযোদ্ধা। গত বছরের ৩১ জুলাই বরিশাল নগরীর কাকলীর মোড়ে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই আন্দোলনের’ মিছিলে পুলিশের হামলার শিকার হন দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র ফটোসাংবাদিক শামীম আহমেদ।
সেদিনের সেই কালো মুহূর্ত আজও তার জীবন থেকে মুছে যায়নি।
ছবির ক্যামেরা হাতে মিছিল কাভার করছিলেন শামীম, কিন্তু হঠাৎ করেই পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে তিনি নির্মমভাবে আহত হন। মাথা ও শরীরে একের পর এক আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়—শারীরিক ও মানসিক আঘাতের যন্ত্রণায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন, পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন, হারান স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা।
আজও তিনি চোখে-মুখে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে বেঁচে আছেন। দিন কাটছে থেরাপি, চিকিৎসা, ঔষধ আর অসহায় জীবনের হিসেব-নিকেশে। পরিবারটি এখন পুরোপুরি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে। তার মেয়ে সাহারা আহমেদ বলেন, “আমার আব্বু ছাড়া আমাদের পরিবারের কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। সরকার যদি সহযোগিতার হাত না বাড়ায়, আমাদের চলা অসম্ভব।”
সাংবাদিক নেতারা ইতোমধ্যে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে শামীম আহমেদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন,
> “শামীম আহমেদ এখন খুবই অসহায়। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করে।”
বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান হীরা বলেন,
> “মাঠের সাংবাদিক হিসেবে শামীম আহমেদ বরাবরই সাহসী ভূমিকা পালন করে এসেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এই হামলার শিকার হয়ে তিনি এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে কিছু আর্থিক সাহায্য মিললেও উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।”
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার জানান,
> “মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চেক সরাসরি তার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—এত কিছুর পরও একজন আহত সাংবাদিক কেন আজও চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা পান না? কেন রাষ্ট্র তার পাশে পুরোপুরি দাঁড়ায় না? যারা সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে জনগণের চোখ ও কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা কেবল দুঃখজনকই নয়, কলঙ্কজনকও বটে।
আজ সময় এসেছে রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালনে আরও মানবিক ও কার্যকর ভূমিকা দেখানোর।
শামীম আহমেদের মতো সংবাদযোদ্ধার পাশে দাঁড়ানো শুধু দয়া নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
Reporter Name 























