8:32 pm, Saturday, 18 April 2026

নেত্রকোনায় স্কুলের সরঞ্জামাদি না কিনেই সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় একটি স্কুলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচারে সাড়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। উপজেলার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার আল আমিন ও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ যোগসাজশ করে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর স্কুলের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ কেনাকাটার জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে স্কুলের সায়েন্স ল্যাবের নানা রাসায়নিক পদার্থ, বইপুস্তক, গবেষণা সরঞ্জামাদি, শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়াসামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ের কথা ছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২২ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পায় নেত্রকোনার মেসার্স ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে উপকরণ সরবরাহ করতে বলা হয়। উপকরণ বুঝে নিতে নিয়মানুযায়ী স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ে কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে যোগসাজশ করে উপকরণ না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেন ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার আল আমিন। আর ক্রয়সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্যদের কাছ থেকে উপকরণ বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারকে উপকরণ সরবরাহের প্রত্যয়ন দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ওই প্রত্যয়ন জমা দিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে গত ১১ জানুয়ারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৫৫ টাকা বিল তুলে নেন ঠিকাদার।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের একাধিক শিক্ষক বলেন, নিয়মানুযায়ী স্কুলের ল্যাবের উপকরণ, বইপুস্তকসহ নানা উপকরণ ঠিকাদার সরবরাহ করবেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ঠিকাদারের সঙ্গে সমঝোতা করে উপকরণ না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে ফেলেছেন। এখন পর্যন্ত একটি উপকরণও কেনা হয়নি। ক্রয়সংক্রান্ত উপকমিটিতেও প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজনদের রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এখন প্রধান শিক্ষক বলছেন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা ব্যয় করেছেন। মূলত এসব কাজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলেই ব্যয় করা হয়।জানতে চাইলে স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও ক্রয়সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্য আজিজুল হক বলেন, ‘কমিটির সদস্য হলেও এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কোনো মালামালও বুঝে পাইনি। প্রধান শিক্ষকের কথামতো স্বাক্ষর করেছি মাত্র। এ ছাড়া আর কিছু জানি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপকরণ ক্রয় না করে নগদ টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, ‘উপকরণ কেনার দরপত্র হলেও ঠিকাদার কোনো উপকরণ দেয়নি। আমরা নগদ টাকা তুলে নিয়েছি। খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা খরচ করা হয়েছে। কোনো উপকরণ এখনো কেনা হয়নি। পরে দরকার হলে উপকরণ কেনা হবে।’ বিষয়টি অনিয়ম কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই।

তবে ঠিকাদার আল আমিন দাবি করেন, স্কুলের ক্রয় কমিটির হাতে সকল উপকরণ বুঝিয়ে দিয়ে তারপর প্রত্যয়ন নিয়েই বিলের টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি অবহিত করলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মোহা. নাসির উদ্দীন বলেন, দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার বিদ্যালয়ে মালামাল সরবরাহ করবেন। নগদ টাকা উত্তোলন নিয়মবহির্ভূত। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নিজের মাথায় গু*লি চালানো পুলিশ সদস্যের বাড়ি গোপালগঞ্জ

নেত্রকোনায় স্কুলের সরঞ্জামাদি না কিনেই সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

Update Time : 12:39:00 pm, Thursday, 12 March 2026

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় একটি স্কুলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচারে সাড়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। উপজেলার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার আল আমিন ও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ যোগসাজশ করে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর স্কুলের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ কেনাকাটার জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে স্কুলের সায়েন্স ল্যাবের নানা রাসায়নিক পদার্থ, বইপুস্তক, গবেষণা সরঞ্জামাদি, শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়াসামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ের কথা ছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২২ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পায় নেত্রকোনার মেসার্স ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে উপকরণ সরবরাহ করতে বলা হয়। উপকরণ বুঝে নিতে নিয়মানুযায়ী স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ে কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে যোগসাজশ করে উপকরণ না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেন ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার আল আমিন। আর ক্রয়সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্যদের কাছ থেকে উপকরণ বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারকে উপকরণ সরবরাহের প্রত্যয়ন দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ওই প্রত্যয়ন জমা দিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে গত ১১ জানুয়ারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৫৫ টাকা বিল তুলে নেন ঠিকাদার।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের একাধিক শিক্ষক বলেন, নিয়মানুযায়ী স্কুলের ল্যাবের উপকরণ, বইপুস্তকসহ নানা উপকরণ ঠিকাদার সরবরাহ করবেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ঠিকাদারের সঙ্গে সমঝোতা করে উপকরণ না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে ফেলেছেন। এখন পর্যন্ত একটি উপকরণও কেনা হয়নি। ক্রয়সংক্রান্ত উপকমিটিতেও প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজনদের রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এখন প্রধান শিক্ষক বলছেন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা ব্যয় করেছেন। মূলত এসব কাজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলেই ব্যয় করা হয়।জানতে চাইলে স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও ক্রয়সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্য আজিজুল হক বলেন, ‘কমিটির সদস্য হলেও এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কোনো মালামালও বুঝে পাইনি। প্রধান শিক্ষকের কথামতো স্বাক্ষর করেছি মাত্র। এ ছাড়া আর কিছু জানি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপকরণ ক্রয় না করে নগদ টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, ‘উপকরণ কেনার দরপত্র হলেও ঠিকাদার কোনো উপকরণ দেয়নি। আমরা নগদ টাকা তুলে নিয়েছি। খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা খরচ করা হয়েছে। কোনো উপকরণ এখনো কেনা হয়নি। পরে দরকার হলে উপকরণ কেনা হবে।’ বিষয়টি অনিয়ম কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই।

তবে ঠিকাদার আল আমিন দাবি করেন, স্কুলের ক্রয় কমিটির হাতে সকল উপকরণ বুঝিয়ে দিয়ে তারপর প্রত্যয়ন নিয়েই বিলের টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি অবহিত করলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মোহা. নাসির উদ্দীন বলেন, দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার বিদ্যালয়ে মালামাল সরবরাহ করবেন। নগদ টাকা উত্তোলন নিয়মবহির্ভূত। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।