8:17 pm, Saturday, 18 April 2026

সিংড়ার মাঠে ফুটেছে সূর্যমুখী, হাসছেন কৃষক

সিংড়ার মাঠে ফুটেছে সূর্যমুখী, হাসছেন কৃষক জাকির

 

 

মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

মোঃ জাকির হোসেন একজন সফল ও পরিশ্রমী কৃষক। ধান চাষের পাশাপাশি বরই, পিয়ারা ও ড্রাগন ফল চাষে সাফল্যের পর এবার তিনি নতুন সম্ভাবনা দেখছেন সূর্যমুখী চাষে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে তার বাড়ি।

চলতি বছরে কৃষিপ্রণোদনার সহযোগিতায় বাড়ির পাশের প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন এই কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাকিরের জমিজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য হলুদ সূর্যমুখী ফুল। সব ফুল সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে, যা ক্ষেতজুড়ে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষজন একনজর দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।

কৃষক জাকির জানান, সূর্যমুখীর চাষ অনেকটা সরিষার মতো হলেও এতে খরচ তুলনামূলক কম। এটি ৯০ থেকে ১০৫ দিনের ফসল। তিনি বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আমার প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উপজেলা কৃষি প্রণোদনা থেকে বীজ ও অন্যান্য সহায়তা পেয়েছি। ফলন ভালো হয়েছে, প্রতি বিঘায় প্রায় ৫ মণ ফলনের আশা করছি।

তিনি আরও জানান, বর্তমান বাজারে সূর্যমুখীর বীজের দাম প্রায় ৩ হাজার ৫শ টাকা প্রতি মণ। সে হিসেবে দেড় বিঘা জমিতে ৭ মণের বেশি ফলন হলে খরচ বাদে ১৫ হাজার টাকার বেশি লাভ হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

জাকিরের পরিকল্পনা শুধু এখানেই থেমে নেই। সূর্যমুখী কাটার পর একই জমিতে ধানসহ আরও দুটি ফসল চাষ করবেন। আগামী বছরে সূর্যমুখীর আবাদ আরও বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে তার।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সরিষার পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি বলেন, কৃষিপ্রণোদনা ও পরামর্শের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা জমিগুলোতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে সিংড়ায় সূর্যমুখীর চাষ আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।

সূর্যমুখীর সোনালি হাসিতে এখন ভরে উঠেছে সিংড়ার মাঠ আর সেই হাসির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে কৃষক জাকিরের স্বপ্ন ও সাফল্যের গল্প।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নিজের মাথায় গু*লি চালানো পুলিশ সদস্যের বাড়ি গোপালগঞ্জ

সিংড়ার মাঠে ফুটেছে সূর্যমুখী, হাসছেন কৃষক

Update Time : 01:59:12 pm, Tuesday, 7 April 2026

সিংড়ার মাঠে ফুটেছে সূর্যমুখী, হাসছেন কৃষক জাকির

 

 

মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

মোঃ জাকির হোসেন একজন সফল ও পরিশ্রমী কৃষক। ধান চাষের পাশাপাশি বরই, পিয়ারা ও ড্রাগন ফল চাষে সাফল্যের পর এবার তিনি নতুন সম্ভাবনা দেখছেন সূর্যমুখী চাষে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে তার বাড়ি।

চলতি বছরে কৃষিপ্রণোদনার সহযোগিতায় বাড়ির পাশের প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন এই কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাকিরের জমিজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য হলুদ সূর্যমুখী ফুল। সব ফুল সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে, যা ক্ষেতজুড়ে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষজন একনজর দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।

কৃষক জাকির জানান, সূর্যমুখীর চাষ অনেকটা সরিষার মতো হলেও এতে খরচ তুলনামূলক কম। এটি ৯০ থেকে ১০৫ দিনের ফসল। তিনি বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আমার প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উপজেলা কৃষি প্রণোদনা থেকে বীজ ও অন্যান্য সহায়তা পেয়েছি। ফলন ভালো হয়েছে, প্রতি বিঘায় প্রায় ৫ মণ ফলনের আশা করছি।

তিনি আরও জানান, বর্তমান বাজারে সূর্যমুখীর বীজের দাম প্রায় ৩ হাজার ৫শ টাকা প্রতি মণ। সে হিসেবে দেড় বিঘা জমিতে ৭ মণের বেশি ফলন হলে খরচ বাদে ১৫ হাজার টাকার বেশি লাভ হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

জাকিরের পরিকল্পনা শুধু এখানেই থেমে নেই। সূর্যমুখী কাটার পর একই জমিতে ধানসহ আরও দুটি ফসল চাষ করবেন। আগামী বছরে সূর্যমুখীর আবাদ আরও বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে তার।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সরিষার পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি বলেন, কৃষিপ্রণোদনা ও পরামর্শের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা জমিগুলোতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে সিংড়ায় সূর্যমুখীর চাষ আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।

সূর্যমুখীর সোনালি হাসিতে এখন ভরে উঠেছে সিংড়ার মাঠ আর সেই হাসির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে কৃষক জাকিরের স্বপ্ন ও সাফল্যের গল্প।