সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]

গর্ভপাতের মামলায় ‘ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট’ বিতর্ক, মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্তের দাবি

গর্ভপাতের মামলায় ‘ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট’ বিতর্ক, মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্তের দাবি

 

 

সৈয়দ সময় , নেত্রকোনা :

 

 

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে একটি গর্ভপাতের মামলার মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর ও লাথি মারার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আদালতে পাঠানো প্রথম মেডিকেল রিপোর্টে সেই ঘটনার কোনো উল্লেখ না করে শুধু “পায়ে ঘষা” লাগার কথা লেখা হয়েছে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই ওই রিপোর্টকে ভুয়া দাবি করে নতুন মেডিকেল রিপোর্ট প্রদান করেছে। ঘটনাটি ঘিরে বিচারপ্রক্রিয়া ও সরকারি হাসপাতালের নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ আশা আক্তারের স্বামী সালমান শাহ। শনিবার (১ আগস্ট) অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩ জুন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তারকে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে তার তলপেটে লাথি মারেন। এরপর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি এবং আলট্রাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন।

পরিবারের দাবি, প্রথম আলট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদনে তিন মাসের জীবিত ভ্রূণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। কিন্তু পরদিন অন্য একটি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে গর্ভের সন্তান আর জীবিত নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলে তদন্তের স্বার্থে মেডিকেল রিপোর্ট চাওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তার হাতে দেওয়ার আগেই রিপোর্ট আদালতে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্টে আঘাতজনিত গর্ভপাতের কোনো তথ্য না থেকে কেবল “পায়ে ঘষা” লাগার উল্লেখ ছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পরই মামলার আসামি জামিন লাভ করেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নজরে এলে ২ জুলাই নতুন মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের রিপোর্টটি ভুয়া এবং সেখানে চিকিৎসকদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অলক কান্তি তালুকদার বলেন, প্রথম রিপোর্টে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। একই দাবি করেছেন মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ সেন ও ডা. মোস্তাফিজুর রহমানও।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল রিপোর্ট তার মাধ্যমে ইস্যু হওয়ার কথা এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু প্রথম রিপোর্টের কোনো রেকর্ড হাসপাতালের নিবন্ধনে পাওয়া যায়নি। তাই সেটিকে ভুয়া বলেই তারা মনে করছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেছেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন ভুয়া বলে দাবি করা মেডিকেল রিপোর্টটি আদালত ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কীভাবে পৌঁছাল, কারা এটি তৈরি করল এবং এর মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কোনো চেষ্টা হয়েছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের পরই।