সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]

কেন্দুয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

কেন্দুয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

 

 

সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা :

 

 

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং একটি চক্রের মাধ্যমে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর ওই কিশোরী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলীয় সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে বুধবার রাতে তাকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নির্যাতনের অভিযোগ

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী কেন্দুয়া পৌর শহরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে, সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তার ওপর যৌন নির্যাতন শুরু হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর দুপুরের দিকে পায়ে ঘা হওয়ার চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস রোডের একটি অজ্ঞাত বাসায় নিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল, যিনি সম্পর্কে কিশোরীর খালু। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে বকুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম ও মেয়ে লিমার বিরুদ্ধেও ওই নির্যাতনে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভয় দেখিয়ে অন্যদের কাছেও নেওয়ার অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার কিশোরীকে পরবর্তীতে আরও কয়েকজনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। আবু মিয়ার বিরুদ্ধে তাকে অচেতন করার পর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া বকুলের নির্দেশে স্মৃতি নামের এক নারী কিশোরীকে বিভিন্ন অজ্ঞাত ভাড়াবাসায় নিয়ে যেতেন এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের শিকার হতে বাধ্য করা হতো বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব ঘটনা প্রকাশ করলে কিশোরী ও তার বাবাকে হত্যা, মরদেহ গোপন এবং এসিড নিক্ষেপ করে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে থাকার কারণে কিশোরী ঘটনাগুলো প্রকাশ করতে পারেনি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনা প্রকাশ

চলতি মাসের ১ আগস্ট কিশোরী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে গেলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কিশোরী কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা জানায়। এরপর তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষায় কিশোরী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।

মামলায় পাঁচজনের নাম

ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন ,মো. আবু মিয়া, বকুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম, মেয়ে লিমা ও মোছা. স্মৃতি। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর দলীয়ভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যায় না।