সর্বশেষ
[ Dragon Age: Inquisition Cracked GOG Release Desktop ] [ গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি :* ] [ Netop School Portable + Crack 100% Worked MEGA ] [ *গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু :* ] [ মতলব উত্তরে হরিনা-দুর্গাপুর সড়কে আবারও খাদে ইটের খোয়াবাহী ট্রলি ] [ স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮ খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ; চারজনকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহে, মামলা দুটি ] [ h5axzj4b5yq7iifzxx ] [ *গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার* ] [ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবল মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার লিজা, দুটি শিশু সন্তানকে এতিম করে যেতে চান না* ] [ জুলাই যোদ্ধা আজ হাসপাতালের বেডে, একটি পা হারিয়ে অসহায়! গরিব বলে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না* ] [ খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার চুরির সময় যুবক আটক ] [ Clayface 2026 HD MP4 DD5.1 𝐅𝚞𝐥𝐥 𝐌𝐨𝚟𝐢𝐞 torrent ]

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ১০ কোটি টাকার জমি দখলের পাঁয়তারা, আদালতের আদেশ ঘিরে উত্তেজনা

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ১০ কোটি টাকার জমি দখলের পাঁয়তারা, আদালতের আদেশ ঘিরে উত্তেজনা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনা পৌরসভার বাহির চাপড়া-পুঠিয়া মৌজায় নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় জমি দখলের উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জমির মালিকপক্ষের অভিযোগ, আদালতের বিদ্যমান আদেশ উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী মহলের মদদে কয়েকজন ব্যক্তি বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুকিরা মৌজার মোট ১ একর ৬৩ শতাংশ জমির মধ্যে ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে ৪৩ শতাংশ জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করে। এ জন্য তৎকালীন মালিক মরহুম ওয়াহেদ আলীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ১ একর ২০ শতাংশ জমি নিয়েই বর্তমানে বিরোধ চলছে। সংশ্লিষ্ট জমির সিএস খতিয়ান নম্বর ১৭৪৫, বিআরএস দাগ নম্বর ২২৭৯ এবং আরএস/আরওআর দাগ নম্বর ২০৬৩।

বাদীপক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দায়ের করা মামলায় আদালতের ১৪৫ ধারার আদেশ বহাল রয়েছে। এ-সংক্রান্ত মামলা নম্বর ৭৮৬/২০২৫।

এদিকে বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও রেকর্ড সংশোধন নিয়ে নেত্রকোনা ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা নম্বর ১২৬/২০২৫ চলমান রয়েছে। নথি অনুযায়ী, ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের আদালতের রায় বহাল রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিবাদীপক্ষ বিআরএস-৯৮১ নম্বর খতিয়ান সংশোধনের আবেদন করে।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, বিআরএস-৯৮১ নম্বর খতিয়ানের রেকর্ডীয় ব্যক্তিরাই প্রয়োজনীয় পক্ষ। বিবাদী-আপিলকারী পক্ষের দাখিল করা মেমো অব আপিলের সংশোধনী দরখাস্তের ৩(১১), ৩(১৮), ৩(১৯), ৩(২০) ও ৩(২৩) নম্বর দফা মঞ্জুরযোগ্য নয় বলেও আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, মদন উপজেলার আকাশ্রী গ্রামের গেদু মিয়ার ছেলে আলামিন এবং বারহাট্টার আনোয়ার গংয়ের পক্ষ থেকে করা কিছু আবেদন আদালতের বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে কাঞ্চন ও ঝিনুক আক্তারের কাছ থেকে পরবর্তীতে নালিশের ২২৭৯ নম্বর দাগের ১ দশমিক ০৫ একর ভূমির মধ্যে ৫০ শতাংশ জমি আনোয়ার গংয়ের কাছে বিক্রির দলিল, খাজনা-খারিজসহ কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হলে ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে আদালত তা বাতিলের আদেশ দেন বলে নথি থেকে জানা যায়। সাক্ষীর জন্য আপিলকারী পক্ষের করা একটি দরখাস্ত আংশিক মঞ্জুর করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে নেত্রকোনা ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ১২৬/২০২৫-এ সংশোধনী আবেদনের ওপর আংশিক আদেশ দেন। সেখানে ৩(১১), ৩(১৮), ৩(১৯), ৩(২০) ও ৩(২৩) নম্বর দফা মঞ্জুরযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয় এবং ওই দফাগুলো বাদ দিয়ে সংশোধনী আবেদনের বাকি অংশ আংশিকভাবে মঞ্জুর করা হয়।

এরই মধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় আনোয়ার গংয়ের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জমির মালিকপক্ষের অভিযোগ, আদালতের ১৪৫ ধারার আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় জমিতে সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

জমির মালিকপক্ষের আরও অভিযোগ, জমির দখল নিয়ে বিরোধের প্রতিবাদ করায় নেত্রকোনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি বাবুল মিয়াকে হুমকি-ধমকি ও মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

জানা গেছে, জমির মালিক ও মামলার বাদী মো. এমরান বাশার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে বেঞ্চ অফিসার হিসেবে কর্মরত। মামলার দেখভালের জন্য তিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি বাবুল মিয়াকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাবুল মিয়া বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং আদালতের আদেশও রয়েছে। এরপরও জমি দখলের চেষ্টা ও আমাকে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা উদ্বেগজনক।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আদালতে বিচারাধীন একটি জমি নিয়ে সামাজিক সালিশ বা প্রভাব খাটিয়ে দখলের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

তবে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত আনোয়ার গংয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রেখে কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।