8:16 pm, Saturday, 18 April 2026

কেন্দুয়ায় হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার ১, হত্যার রহস্য উদঘাটন নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতা

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:30:17 pm, Monday, 5 January 2026
  • 89 Time View

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস রিপন হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১ জনকে গ্রেফতার করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৩ জানুয়ারী সকালে কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বিদ্যাবল্লভ গ্রামের লাইট্টাউড়ি নামক এলাকার ফসলী জমিতে হাত পুড়ানো জবাই করা অবস্থায় এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করার পর পরিচয় সনাক্তের চেষ্টাকালে পার্শবর্তী কালেঙ্গা মাইজপাড়া গ্রামের মৌলা মিয়ার পুত্র সুজন মিয়া জানান, এটি তার ছোট ভাই রিপন মিয়ার (২৫) লাশ। সে একজন রাজমিস্ত্রী। সে দুই আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে এসেছে। গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম ক্লুলেস হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকান্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় নিহত রিপনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ৩ জানুয়ারী ৪ জনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কেন্দুয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ এর নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ আব্দুল জলিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ৪ জানুয়ারী দুপুরে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় বিদ্যাবল্লভ গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম এর ছেলে মোঃ রাকিব মিয়াকে (২৪) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত রাকিব বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দীঃ প্রদান করে। আদালতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জানুয়ারী রাতে বিদ্যাবল্লভ গ্রামে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে রিপন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে মাতাত্মক আহত হয়। বিদ্যুৎস্পর্শে তার দু হাত পুড়ে যায়।

 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার আশংকায় এবং চুরির ঘটনাটি আড়াল করতেই এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই আহত রিপন মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে নিয়ে গলার সামনে ও পিছন দিকে জবাই করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে তারা চলে যায়।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।


 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নিজের মাথায় গু*লি চালানো পুলিশ সদস্যের বাড়ি গোপালগঞ্জ

কেন্দুয়ায় হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার ১, হত্যার রহস্য উদঘাটন নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতা

Update Time : 01:30:17 pm, Monday, 5 January 2026

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস রিপন হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১ জনকে গ্রেফতার করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৩ জানুয়ারী সকালে কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বিদ্যাবল্লভ গ্রামের লাইট্টাউড়ি নামক এলাকার ফসলী জমিতে হাত পুড়ানো জবাই করা অবস্থায় এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করার পর পরিচয় সনাক্তের চেষ্টাকালে পার্শবর্তী কালেঙ্গা মাইজপাড়া গ্রামের মৌলা মিয়ার পুত্র সুজন মিয়া জানান, এটি তার ছোট ভাই রিপন মিয়ার (২৫) লাশ। সে একজন রাজমিস্ত্রী। সে দুই আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে এসেছে। গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম ক্লুলেস হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকান্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় নিহত রিপনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ৩ জানুয়ারী ৪ জনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কেন্দুয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ এর নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ আব্দুল জলিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ৪ জানুয়ারী দুপুরে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় বিদ্যাবল্লভ গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম এর ছেলে মোঃ রাকিব মিয়াকে (২৪) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত রাকিব বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দীঃ প্রদান করে। আদালতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জানুয়ারী রাতে বিদ্যাবল্লভ গ্রামে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে রিপন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে মাতাত্মক আহত হয়। বিদ্যুৎস্পর্শে তার দু হাত পুড়ে যায়।

 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার আশংকায় এবং চুরির ঘটনাটি আড়াল করতেই এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই আহত রিপন মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে নিয়ে গলার সামনে ও পিছন দিকে জবাই করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে তারা চলে যায়।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।