*যশোর অভয়নগরে ভুয়া কবিরাজ মনিমার প্রতারণার সাম্রাজ্য*
যশোরের অভয়নগর উপজেলার পাচুড়িয়া গ্রামে এক ভুয়া কবিরাজের প্রতারণার জাল বিস্তৃত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত মাফিয়া ওরফে মনিমা নামের এই নারী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কুসংস্কার ও অজ্ঞতাকে পুঁজি করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছে।
মনিমা নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে প্রচার করে। কখনও জ্বীনের গল্প, কখনও তাবিজ–কবজ, আবার কখনও ভুয়া চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি অসহায় মানুষকে ফাঁদে ফেলেন। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ বিশ্বাস করে তাদের দুঃখ–কষ্ট, রোগব্যাধি, পারিবারিক ঝামেলা কিংবা সন্তান না হওয়ার সমস্যার সমাধান তিনি করতে পারবেন। এই সুযোগেই প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
মনিমার আস্তানায় গেলেই শোনা যায় জ্বীন-পরীর গল্প। রোগীর শরীরে নাকি জ্বীন ভর করেছে, ঘরে অশুভ শক্তি আছে—এইসব ভয় দেখিয়ে তিনি মানুষকে তার দেওয়া তাবিজ–কবজ ব্যবহারে বাধ্য করেন। আবার নানা ভুয়া ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তিনি চিকিৎসার নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে দাম্পত্য কলহ, ব্যবসায় ক্ষতি, চাকরিতে ব্যর্থতা কিংবা দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভোগা মানুষরা তার কাছে গিয়ে ‘ভাগ্য বদলের’ আশায় সর্বস্ব খুইয়ে আসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ভুয়া কবিরাজ প্রতিদিনই কয়েক ডজন মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছেন। তাবিজ-কবজের দাম একেকজনের সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেন। এভাবেই তিনি কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। অথচ এইসব তাবিজ–ঝাড়ফুঁকের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, বরং এতে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
মনিমার প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। চিকিৎসার নামে ভুল পদ্ধতিতে অনেক রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। কেউ আবার পরিবারের স্বর্ণালঙ্কার, জমিজমা বেচে দিয়েও এখন পথে বসেছে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, এভাবে ভুয়া কবিরাজির নামে প্রতারণা চালাতে থাকলে গ্রামাঞ্চলের নিরীহ মানুষ সর্বনাশের পথে চলে যাবে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
যশোর অভয়নগরের পাচুড়িয়া গ্রামে ভুয়া কবিরাজ মাফিয়া ওরফে মনিমার প্রতারণার সাম্রাজ্য এখন প্রকাশ্য গোপন সত্যে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।
Reporter Name 























