রবিউল আউয়াল মাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের আগমন ও পরলোকগমন
মোঃ খাত্তাব হোসেন বগুড়া:
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় কিছু দিন, কিছু সময় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। মুসলমানদের কাছে রবিউল আউয়াল মাস তেমনই এক মহিমান্বিত মাস। এই মাসেই মহান আল্লাহ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে। আবার এই মাসেই তিনি ইহলোক ত্যাগ করে মহান রবের সান্নিধ্যে গমন করেছেন। তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এ মাস যেমন আনন্দের, তেমনি বেদনারও মাস।
হিজরি সালের ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার ভোররাতে মক্কার কোরাইশ বংশের সম্মানিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। ফলে জন্মের আগেই তিনি এতিম হন। জন্মের পর থেকেই তাঁর জীবন আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সুরক্ষিত ছিল। সেই মুহূর্ত থেকে মানবতার মুক্তির দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং পৃথিবী আলোকিত হয়ে ওঠে।
নবিজীর জন্ম ছিল নিপীড়িত ও পথভ্রষ্ট মানবজাতির জন্য আশার আলো। তিনি এলেন দুনিয়ায় অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজকে তাওহীদের আলো দেখাতে, অমানবিক প্রথা বিলুপ্ত করতে, এবং আল্লাহর একত্ববাদের বাণী প্রচার করতে।
হিজরতের দশম বছর, অর্থাৎ ৬৩ বছর বয়সে, একই ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার প্রিয় নবীজী (সা:) মদিনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে সমগ্র মুসলিম সমাজ শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। সাহাবায়ে কেরাম যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে, তাঁদের প্রিয় নবী ইহলোক ত্যাগ করেছেন।
তবে নবিজীর মৃত্যুতে তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিক দিকনির্দেশনা কখনো শেষ হয়নি। বরং তা আজও জীবন্ত এবং মানবজাতির জন্য চিরকালীন পথপ্রদর্শক হয়ে আছে।
রবিউল আউয়াল আমাদের জন্য শুধু স্মরণ ও আবেগের মাস নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও শিক্ষা গ্রহণের মাস। মহানবী (সা:) আমাদের জন্য যে দয়া, সততা, ন্যায়, মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির আদর্শ রেখে গেছেন, সেগুলোই আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মুসলমানরা এই মাসে মিলাদ মাহফিল, দোয়া মাহফিল ও সীরাতুন্নবী (সা:) মাহফিল আয়োজন করে প্রিয় নবির জন্ম ও জীবনকথা স্মরণ করে। তবে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, তাঁর আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করাই রবিউল আউয়াল মাসের প্রকৃত তাৎপর্য।
রবিউল আউয়াল মাসে নবিজীর জন্ম মানবজাতিকে মুক্তির আলো দিয়েছিল, আর তাঁর ইন্তেকাল আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও তাঁর শিক্ষা আঁকড়ে ধরার প্রয়োজনীয়তা। এই মাসে আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর জীবনাদর্শকে অনুসরণ করব এবং তাঁর দেখানো পথে চলব।
নিশ্চয়ই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, যাঁর আগমন ও প্রস্থান উভয়ই রবিউল আউয়ালের স্মৃতিকে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।
Reporter Name 






















