অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আর মাদকে ভাসছে যশোর
মালিকুজ্জামান কাকা
আগ্নেয়াস্ত্র আর মাদকে ভাসছে যশোর। সন্ত্রাসী আর রাজনীতির মঞ্চ মিলে মিশে একাকার। সন্ত্রাসীরা ভোল পাল্টে করছে রাজনীতির মিছিল মিটিং। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র যেন বছরের পর বছর, যুগ যুগ ধরে বেমালুম গায়েব। অপকর্মে প্রকাশ্যই তা ব্যাবহার হয় আবার থাকে তা ওপেন সিক্রেট। আর তাই চাপা ক্ষোভ আর টানটান উত্তেজনা শহর গ্রামে সর্বত্র। একের পর এক খুন ধারাবাহিক ভাবে ঘটেছে। সন্ত্রাসের শিকার বলির পাঠা হয়েছে ভালো খারাপ অনেকেই।
১৯৯৬ সালে পুলিশের সাথে যশোর শহরের চোর মারা দীঘির পাড়ে সুইট বাহিনীর বন্দুক যুদ্ধের কথা সর্বজন বিদিত। এর পর এই রেলগেটে আত্ম প্রকাশ ঘটেছিল মরা তরিকুল সাইদুল বাহিনী। রায়পাড়া শঙ্করপুরে ছিল আরো অন্তত ১০টি সন্ত্রাসী বাহিনী যাদের আলাদা আলাদা আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ ছিল। শঙ্করপুরে জন্ম নেয় হাসান মিজান বাহিনী। রেলগেটে আত্ম প্রকাশ করে রাজা বাহিনী, ডলার বাহিনী। খড়কি, কলা বাগান, বালি ভেকুটিয়া, শেখহাটি, রাজারহাট সতিঘাটায় ছিল পৃথক বাহিনী। রূপদিয়ায় চেয়ারম্যান রাজু বাহিনী সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। কোন কোন মহল্লায় ২/৩ টি সন্ত্রাসী বাহিনী জনমনে আতঙ্ক ছড়ায়। পুলেরহাটে হেমায়েত বাহিনী, আরবপুরে সাহারুলের ছিল নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। এসব বাহিনীর সহস্র আগ্নেয়াস্ত্র আজো হিসাবের বাইরে আর চোখের আড়ালে। অতীতে যেমন ভোট, প্রভাব, চাঁদাবাজি, খুনে এসব অস্ত্র ব্যাবহার হয়েছে। আবারো তেমন ব্যাবহার হতে পারে বলে জনতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। কেননা এই সব সামাজিক অপরাধী বারবার ভোল পাল্টায়। ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত হত্যা আর অস্ত্রবাজিতে উত্তাল যশোর। যদিও এই সময়ে বেশিরভাগ ক্লু লেস হত্যার মোটিভ ও খুনী আটকে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন কিন্ত অস্ত্র উদ্ধার খুব আশাপ্রদ নয়। এটি জন সাধারণের জন্য চরম বার্তা।
যশোর পৌরসভার কাউন্সিলরদের ছিল আলাদা নিজস্ব বাহিনী। এরা আগ্নেয়াস্ত্র সমৃদ্ধ ছিল বলে প্রশানিক তথ্য রয়েছে। তবে বলার মত অস্ত্র যশোরে উদ্ধার হয়নি। চাঁচড়ায় পান্নু বাহিনী, কারবালায় দাঁতাল বাবু, চূড়ামন কাঠিতে মুন্না, রাজারহাটে নাসির বাহিনী, চাঁচড়ায় পান্নু বাহিনী, মনিরামপুরে আদন বাহিনী শারসায় আয়নাল, মিলন বাহিনী, অভয়নগরে শাহীন বাহিনী,
সূত্র জানায় শর্টগান, নাইন এমএম পিস্তল, ফাইভ ষ্টার, ভারতীয় পিস্তল বার বার সন্ত্রাসী রা প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে। শুধু যশোর শহরেই শতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল। একের পর এক খুন হলেও বলার মত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। জনগণের শঙ্কা এখানেই।
এসব সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে খুন হয়েছে ছাত্রদল নেতা পলাশ, শঙ্করপুরের বিএনপি কর্মী মসিয়ার, ষষ্ঠীতলার যুবদল কর্মী কামাল, ভাতুড়িযায় ইমরোজ, কলাবাগান পাড়ায় রমজান, সাড়াপোলে মুকুল, শঙ্কর পুরে মান্নান,যুবদল নেতা ধনী, খোলাডাঙার সজল, সন্ত্রাসী হেমায়েত, এঁড়েন্দার দাদা রিপন, ডালমিলের বাপ্পি, চোরমারা দীঘির পাড়ের জিম, ষষ্টি তলার বাহিনী প্রধান হাঁস সোহেল, পঙ্গু হাসপাতালে র পিছনে সাদি, বেজপাড়ায় ইয়াসিন, বুনো আসাদ, ক্লিক শামিম, নোয়াপাড়া শেখহাঁটির কাউরা আব্বাস, তানভীর হাসান, আকাশ শামিম শেখ, খোলাডাঙ্গায় সজল, মনিরাম পুরে আশরাফুল, ডাকাতিয়ায় চঞ্চল মহামুদ, ঝিকরগাছায় যুবদল কর্মী পিয়াল হাসান, নিরীহ বিএনপি কর্মী কোন্দপপুরের হীরা,
শঙ্করপুরের জুম্মান সর্দার, খড়কির রিপন হোসেন, অভয় নগরে রবিউল ইসলাম,
শুধু ২০২৫ সালেই এ জেলায় পারিবারিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, মাদক এবং পরকীয়ার জেরে ৬০টি হত্যা কাণ্ড ঘটে।
হাত বাড়ালেই এখানে প্রতি মহল্লায় মিলছে মাদক দ্রব্য। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে। এরা রাজনৈতিক দলের মিছিল মিটিঙে নিয়মিত যাচ্ছে। এসব মাদক কারবারি, পালের গোদারা এতদিন আওয়ামীলীগ করলেও এখন বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাস্ত। এটা দেখে জনগণ ভীত সন্ত্রস্ত হচ্ছে। এরা মুখ খোলা সমীচীন মনে করছে না। মুজিব সড়ক, রেলগেট প্রাইভেট স্ট্যান্ড, পাখি পট্টি, কলাবাগান পাড়া, খড়কি, ঝিল পুকুর এলাকার প্রকাশ্যে মাদক দ্রব্য বেচা কেনা চলছে। ষষ্টিতলা, রেলস্টেশন, কয়লাপট্টি, সাঁড় অফিস, বাবলাতলায় দিনে রাতে মাদক দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। এসব মাদক বিক্রেতা আগে নিজেদের আওয়ামীলীগ কর্মী দাবি করলেও এখন তারা বলে বেড়াচ্ছে আমরা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত। কেনা জানে সন্ত্রাসীর কোন দল থাকে না। চাঁদাবাজ কখনো রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে না। খুনী কোন সভ্য মানুষ নন। অপরাধী সমাজের বিষ ফোঁড়া। এসব অস্ত্রবাজ অপরাধী বুক ফুলিয়ে মানুষ জনকে হুমকি দিচ্ছে। এসব সামাজিক দুর্বত্ব চোর সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আর তাই জনগণের, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস চরমে।
Reporter Name 























