স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে প্রতারণা, চোরাই মালামালের সিন্ডিকেটের অভিযোগ—বরিশালে খাইরুলকে ঘিরে চাঞ্চল্য
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ;
বরিশাল নগরীতে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রির সিন্ডিকেট এবং স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অভিনব প্রতারণার অভিযোগে খাইরুল নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাইরুলের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চোরাই মালামাল সংগ্রহ করে হাটখোলা এলাকায় বিক্রি করে আসছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল একটি নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করে পরে তা হাটখোলা এলাকায় বিক্রি করা হয়। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে খাইরুলের নাম সামনে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার মাধ্যমেই দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাইরুল নগরীর সিএন্ডবি রোডের কাজীপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। সেখান থেকেই তিনি চোরাই মালামাল কেনাবেচার এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
অন্যদিকে, খাইরুল ও আয়শা আক্তার সাথী নামে এক যুবতীর বিরুদ্ধে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ও মালামাল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সিপন খলিফা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডি নম্বর ৬৬৮, তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬।
ভুক্তভোগী সিপন খলিফা জানান, কিছুদিন আগে তার সঙ্গে আয়শা আক্তার সাথী ও খাইরুলের পরিচয় হয়। ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের অনুরোধে তিনি গ্রান্টার হয়ে নগরীর হাটখোলা এলাকার একটি ওয়ালটন শোরুম থেকে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান, রাইস কুকার ও প্রেসার কুকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করতে সহায়তা করেন।
কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই খাইরুল ও সাথী উধাও হয়ে যান। পরে তাদের খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন সিপন। অভিযোগের পর পুলিশ নগরীর ভাটারখাল এলাকা থেকে তাদের খুঁজে বের করে থানায় নিয়ে আসে।
সিপনের দাবি, থানায় বসেই আয়শা আক্তার সাথী টাকা পরিশোধের মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। কিন্তু পরে আবার নতুন করে প্রতারণার আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তিনি অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিএন্ডবি রোড এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন এবং কিছুদিন পর সেখান থেকেও উধাও হয়ে যান।
পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে সিপন খলিফা জানতে পারেন, আয়শা আক্তার সাথীর বাড়ি মুলাদী উপজেলায়। সেখানে গিয়ে তার বাবা বাদল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তবে একাধিকবার মেয়ের সন্ধান দেওয়ার কথা বললেও বাদল মিয়া তা দেননি বলে অভিযোগ করেছেন সিপন।
স্থানীয়দের দাবি, আয়শা আক্তার সাথী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একই ধরনের প্রতারণা করে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ ওই প্রতারক চক্রের সদস্যদের স্থায়ীভাবে আটক করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে খাইরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং সিনিয়র সাংবাদিক নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি “দেখে নেওয়া” হবে বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিবেদক।
এ ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে চোরাই মালামালের সিন্ডিকেট ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ; 


















