8:31 pm, Saturday, 18 April 2026

প্রায় দেড় যুগের রাজনৈতিক নির্বাসন, রাজপথের লড়াই এবং জেল-জুলুমের সময় পেছনে ফেলে এ বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বস্তির বার্তা,

প্রায় দেড় যুগের রাজনৈতিক নির্বাসন, রাজপথের লড়াই এবং জেল-জুলুমের সময় পেছনে ফেলে এ বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বস্তির বার্তা,

এবার ফিরেছে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। দীর্ঘদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর এবার তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিএনপির নেতারা প্রতি বছরের মতো এবারও দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। অধিকাংশ নেতা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। তবে দলের মহাসচিবসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় শেষে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেবেন। এতে ঢাকায় অবস্থানরত কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, বিশিষ্ট নাগরিক, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ঢাকায় থাকবেন। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে, ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে ঈদ করবেন। সালাউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ উদযাপন করবেন। আর ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমানে জাপান সফরে থাকলেও যদি দেশে ফেরেন, তাহলে ঢাকায় ঈদ করার কথা।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস গুরুতর অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একইভাবে নজরুল ইসলাম খানও অসুস্থতার কারণে বিদেশে থাকায় দেশে ঈদ করতে পারছেন না। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ঢাকায় ঈদ করবেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রী ও নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। যেমন—কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লার মুরাদনগরে, মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে, নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরায়, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটে, জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে, মো. আমিনুর রশিদ ইয়াসিন কুমিল্লা সদরে, আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জে ঈদ করবেন।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী লক্ষ্মীপুরে, আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাটে, মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহে, জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লার বড়ুড়ায়, দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটিতে, আ ন ম এহসানুল হক মিলন চাঁদপুরের কচুয়ায়, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল নরসিংদীতে ঈদ উদযাপন করবেন। আহমেদ আজম খান ও ফকির মাহবুব আনাম টাঙ্গাইলে ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরবেন। শেখ রবিউল আলম ঢাকায় থাকবেন।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল চট্টগ্রামে, ড. এম এ মুহিত ঢাকায়, হাবিবুর রশিদ হাবিব ঢাকায় এবং রাজিব আহসান বরিশালে ঈদ উদযাপন করবেন।

শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু ঢাকায়, জয়নুল আবদিন ফারুক, বরকত উল্লাহ বুলু ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন নোয়াখালীতে এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে ঈদ করবেন।

অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ঢাকায়,ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির ঢাকায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জেলানী গোপালগঞ্জ ঈদ উদযাপন করবেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যস্ত থাকার কারণে বহু নেতাকর্মী কারাগারে বা মামলার কারণে পালিয়ে থেকে ঈদ উদযাপন করেছেন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ঈদ করার সুযোগ ছিল না অনেকেরই। তাই ২০২৬ সালের ঈদ তাদের কাছে দীর্ঘ সময়ের দুঃসহ অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির প্রতীক হয়ে এসেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরের দুঃসহ সময় পার করে এবারের ঈদ একধরনের মানসিক মুক্তির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নিজের মাথায় গু*লি চালানো পুলিশ সদস্যের বাড়ি গোপালগঞ্জ

প্রায় দেড় যুগের রাজনৈতিক নির্বাসন, রাজপথের লড়াই এবং জেল-জুলুমের সময় পেছনে ফেলে এ বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বস্তির বার্তা,

Update Time : 06:21:20 pm, Saturday, 21 March 2026

প্রায় দেড় যুগের রাজনৈতিক নির্বাসন, রাজপথের লড়াই এবং জেল-জুলুমের সময় পেছনে ফেলে এ বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বস্তির বার্তা,

এবার ফিরেছে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। দীর্ঘদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর এবার তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিএনপির নেতারা প্রতি বছরের মতো এবারও দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। অধিকাংশ নেতা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। তবে দলের মহাসচিবসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় শেষে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেবেন। এতে ঢাকায় অবস্থানরত কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, বিশিষ্ট নাগরিক, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ঢাকায় থাকবেন। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে, ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে ঈদ করবেন। সালাউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ উদযাপন করবেন। আর ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমানে জাপান সফরে থাকলেও যদি দেশে ফেরেন, তাহলে ঢাকায় ঈদ করার কথা।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস গুরুতর অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একইভাবে নজরুল ইসলাম খানও অসুস্থতার কারণে বিদেশে থাকায় দেশে ঈদ করতে পারছেন না। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ঢাকায় ঈদ করবেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রী ও নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। যেমন—কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লার মুরাদনগরে, মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে, নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরায়, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটে, জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে, মো. আমিনুর রশিদ ইয়াসিন কুমিল্লা সদরে, আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জে ঈদ করবেন।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী লক্ষ্মীপুরে, আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাটে, মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহে, জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লার বড়ুড়ায়, দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটিতে, আ ন ম এহসানুল হক মিলন চাঁদপুরের কচুয়ায়, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল নরসিংদীতে ঈদ উদযাপন করবেন। আহমেদ আজম খান ও ফকির মাহবুব আনাম টাঙ্গাইলে ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরবেন। শেখ রবিউল আলম ঢাকায় থাকবেন।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল চট্টগ্রামে, ড. এম এ মুহিত ঢাকায়, হাবিবুর রশিদ হাবিব ঢাকায় এবং রাজিব আহসান বরিশালে ঈদ উদযাপন করবেন।

শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু ঢাকায়, জয়নুল আবদিন ফারুক, বরকত উল্লাহ বুলু ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন নোয়াখালীতে এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে ঈদ করবেন।

অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ঢাকায়,ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির ঢাকায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জেলানী গোপালগঞ্জ ঈদ উদযাপন করবেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যস্ত থাকার কারণে বহু নেতাকর্মী কারাগারে বা মামলার কারণে পালিয়ে থেকে ঈদ উদযাপন করেছেন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ঈদ করার সুযোগ ছিল না অনেকেরই। তাই ২০২৬ সালের ঈদ তাদের কাছে দীর্ঘ সময়ের দুঃসহ অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির প্রতীক হয়ে এসেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরের দুঃসহ সময় পার করে এবারের ঈদ একধরনের মানসিক মুক্তির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে।